প্রতিমা ডেস্ক(১৩ মার্চ) :: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখনো একমাস কাটেনি।
এরই মধ্যে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারের আমলে দেশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিকদের উপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ লুটপাটের ঘটনা আছে।
১৩ মার্চ শুক্রবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা নির্বাচনের আগে বর্তমান শাসক দলকে তাদের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
ভোটের আগে বিএনপি সহ অনেক দলই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্রয় দিয়েছিল।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী এক মাসে দেশব্যাপী সংঘটিত প্রায় অর্ধশতাধিক সাম্প্রদায়িক সহিংস ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধনের আয়োজন করে ওই সংগঠন।
সেখানে সংখ্যালঘু নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এদেশের আপামর ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আশা করেছিলেন যে অসাম্প্রদায়িক মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার সরকারি দল করেছিল তা নস্যাৎ করতে কয়েকটি মহল তৎপর।
এহেন অশুভ তৎপরতা রোধে কার্যকর ভূমিকা পালনে অনতিবিলম্বে এগিয়ে আসতে সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানের প্রতি তারা আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত শুক্রবারে রাজ্যসভায় বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক লিখিত বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করেছেন, তারেক রহমানের সরকার অন্তর্ভুক্তি সরকারের সময়ে সংঘঠিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনাগুলির উপযুক্ত তদন্ত করবে। বিগত আঠারো মাসে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের জমানায় বাংলাদেশে তিন হাজারের বেশি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনার ঘটেছে বলে সংসদে জানিয়েছে ভারত সরকার।
এদিকে ঢাকায় শুক্রবার ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনের দু এক দিন আগে থেকে নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে ভোটদানের জন্য যে ধরণের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছিল সে একই ধারা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে অব্যাহত রাখা হবে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সমন্বিত সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চার নেতৃবৃন্দ বলেছেন, নির্বাচন-পরবর্তী এক মাসের সাম্প্রদায়িক সহিংস ঘটনাবলীর মধ্যে রয়েছে- হত্যা, ধর্ষণ, মন্দিরে হামলা ও লুটপাট, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, আদিবাসীদের বসতভিটা দখলের ঘটনা। এসবের মধ্যে রয়েছে-ভোলার তজুমুদ্দীনে ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণকারী এক মহিলাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে গণধর্ষণ, চট্টগ্রামে আকাশ দাস, বগুড়ায় সুনীল বাঁশফোড়, কক্সবাজারে ব্যবসায়ী গণেশ পাল, বগুড়ায় শিক্ষক চয়ন রাজভর, যশোরে অরুণ অধিকারী, ময়মনিসংহের চাল ব্যবসায়ী সুশেন চন্দ্র সরকার, গাইবান্ধার সদর উপজেলার অমিতাভ চন্দ্র সুজনকে হত্যা এবং কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণপাড়ার কালী গাছতলা শিব মন্দিরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরোহিতসহ চারজনকে জখম, বগুড়ার ধুনটে লক্ষ্মীমন্দিরে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া, সাতক্ষীরার আশাশুনির হামকোড়া কালীমন্দিরে ভাঙচুর, ফেনীর পারিবারিক মন্দিরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা।
নেতৃবৃন্দ ইতিমধ্যে সংঘটিত সকল সাম্প্রদায়িক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার এবং আইনের আওতায় এনে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিদান, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও আহতদের সুচিকিৎসার জোর দাবি জানান। তাঁরা একই সঙ্গে অনতিবিলম্বে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনসহ তাদের ৮ (আট) দফা দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নিমিত্তে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। মানববন্ধন শেষে কয়েক শতাধিক লোকের এক বিক্ষোভ মিছিল প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে বের হয়ে পল্টন মোড় ঘুরে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে ভাষণ দেন গণফোরামের সভাপতি ও ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সুব্রত চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও ঐক্যমোর্চার যুগ্ম সমন্বয়ক মনীন্দ্র কুমার নাথ, বাংলাদেশ খ্রিস্টান এ্যাসোসিয়েশনের সুব্রত হাজরা, বাংলাদেশ সনাতন পার্টির সাধারণ সম্পাদক সুমন কুমার রায়, ওয়ার্ল্ড হিন্দু ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ দাস, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের (এম.কে) সাধারণ সম্পাদক এম কে রায়, অনুভব বাংলাদেশ’র সাধারণ সম্পাদক অতুল চন্দ্র মণ্ডল, ঐক্য পরিষদ মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব কৃষ্ণ দাস, মতুয়া মহাসংঘের নিউটন অধিকারী, বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য, যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা, ছাত্র ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সজীব সরকার, সনাতন মহাসংঘের পীযূস দাস প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মুখপাত্র ও নির্বাহী মহাসচিব পলাশ কান্তি দে।
সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- ওয়ার্ল্ড হিন্দু ফেডারেশনের সভাপতি বরুণ চন্দ্র সরকার, ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মিলন কান্তি দত্ত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র নাথ বসু, রমেন মণ্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক দীপঙ্কর ঘোষ, মহিলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিপালী চক্রবর্তী, গীতা বিশ্বাস প্রমুখ। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও সারা দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে একই দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

