বিদ্যুৎহীন দুর্গোৎসবে আনন্দে ছন্দপতন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রতিমা ডেস্ক :: জাতীয় গ্রিডের পূর্বাঞ্চলীয় সঞ্চালন লাইনে বিভ্রাট দেখা দেয়ায় ৪ অক্টোবর মঙ্গলবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ায় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। এতে সচিবালয়, সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, বাসা-বাড়ি, কল-কারখানা, হাসপাতাল ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। এছাড়া অনাকাক্সিক্ষত এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ফলে সারাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার মহানবমীর আনন্দেও ছেদ পড়ে।

দুপুরের আগ পর্যন্ত সব কিছু ঠিকঠাকই ছিল। টানা দুই বছর করোনা মহামারি আর গত বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার স্মৃতি ভুলে ভক্তরা মেতে ছিলেন দুর্গোৎসবের আয়োজনে।

মঙ্গলবার ছিল মহানবমী। এই দিন শেষবারের মতো দেবী দর্শনে ভক্তদের থাকে উপচেপড়া ভিড়।

মণ্ডপ-মন্দিরে চোখ ধাঁধানোর আলোকসজ্জা, আরতি প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলো নবমীর বিশেষ আয়োজন। কিন্তু সেই আনন্দ আয়োজনে ছন্দপতন হয় দুপুরেই। জাতীয় গ্রিডের সঞ্চালন লাইনে বিভ্রাটের কারণে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। হঠাৎ করেই অন্ধকার নেমে আসে।

এ কারণে অনেক মণ্ডপ ও মন্দিরের কর্মসূচিতে কাটছাটও করতে হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে এ সমস্যা। এ ঘটনার পরই মন্দির ও মণ্ডপের নিরাপত্তার বিষয়ে আরো বেশি সতর্ক হয়ে পড়েন পুলিশ প্রশাসন এবং আয়োজকরা?

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা কাজল দেবনাথ বলেন, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে সারাদেশে বিদ্যুৎ সংকট হয়। সব পূজামণ্ডপকে আলোর বিকল্প ব্যাবস্থা নেয়া ও প্রয়োজনে আরতি প্রতিযোগিতাসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

একইসঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর অনুরোধও জানানো হয়েছে।

বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান পরিচালনা কমিটির সভাপতি লায়ন চিত্তরঞ্জন দাস  জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মহানবমী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে কাটছাঁট করতে হয়েছে। আয়োজনের বিঘœ ঘটেছে।

সন্ধ্যায় সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরের পূজামণ্ডপে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকার কাটাতে সেখানে মোমবাতি জ¦ালানো হয়েছে। পূজারি ও ভক্তরা অলস সময় পার করছেন।

এ ঘটনার পরপরই রাজধানীর সব পূজামণ্ডপের জন্য বাড়তি সতর্কতা জারি করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। যেসব মণ্ডপে জেনারেটর নেই, সেসব মণ্ডপে সন্ধ্যার আগেই জেনারেটরের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সিসিটিভি সচল রাখার বিকল্প ব্যবস্থা করতে বলা হয়। পোশাকে ও সাদা পোশাকে সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে।

স্ত্রী সন্তান নিয়ে গতকাল বিকালে প্রতিমা দেখতে বের হয়েছিলেন বেসরকারি একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা স›দ্বীপ রায়। তিনি বলেন, কয়েকটি মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন করতে পারলেও সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় অন্ধকারের জন্য অনেক মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন হয়নি। এর চেয়েও বড় একটি সমস্যায় পড়েছিলাম। মণ্ডপে নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা লাইন। অন্ধকারের মধ্যে আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এদিকে ফোন করব ফোনেও সংযোগ পাচ্ছিলাম না। পরে বাইরে এসে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

প্রতিবারই নবমীতে বন্ধুদের সঙ্গে মণ্ডপ ঘুরে ঘুরে প্রতিমা দেখেন গোপীবাগের বাসিন্দা বিশাল শীল। অনেক সময় রাতও হয়ে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন বলে জানান তিনি। বিশাল বলেন, বন্ধুরা মিলে প্রতিবারই প্রতিমা দেখতে যাই। এবার আর সেটি যাওয়া হয়নি। পাড়ার পূজামণ্ডপেই ছিলাম।

এদিকে দুপুরে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর বিকাল থেকেই লোকজন কন্টেইনার নিয়ে তেলের জন্য বিভিন্ন তেলের পাম্পে ভিড় জমায়। কয়েক ঘণ্টা ডিজেলচালিত জেনারেটর দিয়ে চললেও তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় ঢাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ডিজেলের জন্য দেখা দিয়েছে লম্বা লাইন। অবশ্য বিপর্যয় কাটিয়ে রাত ৮টার পর থেকে ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হতে থাকে।