সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনসহ ৭ দাবিতে ২২ অক্টোবর সকাল-সন্ধ্যা গণঅনশন কর্মসূচি ঘোষণা

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রতিমা ডেস্ক :: সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনসহ সাত দাবিতে আগামী ২২ অক্টোবর সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা গণঅনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

শনিবার পরিষদের চট্টগ্রাম শাখার আয়োজনে নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে এক সমাবেশে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত।

তিনি বলেন, “সরকারি দল নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের যে লড়াই, সে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ওই দিন গণঅনশন কর্মসূচি পালিত হবে। এরপর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

সমাবেশ থেকে সরকারি দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

দাবিগুলো হল- সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন দ্রুত বাস্তবায়ন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি এবং পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন এবং দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন।

সমাবেশে জাসদ নেতা ও পরিষদের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতি ইন্দু নন্দন দত্ত বলেন, “আন্দোলন অনেক হয়েছে। ৭০ বছর ধরে মাঠে আন্দোলন সংগ্রাম করে কোনো দাবি আদায় হয়নি। আন্দোলনের ধরন পাল্টাতে হবে।

“সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এমপিরা, তারা যদি সংখ্যালঘু হয়ে থাকেন, কেন সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন না? রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেব। গণতান্ত্রিক উপায়ে দাবি আদায়ের অনেক পথ আছে। আমরা এখনও গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাচ্ছি।”

আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “যতই নির্বাচন কাছে আসবে, তত নির্যাতন বাড়বে। আন্দোলনের বিকল্প পথ নিতে হবে। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সব অচল করে দিব।”

নড়াইলে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ও মন্দিরে হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান পরিষদ নেতারা।

ফেইসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে শুক্রবার সন্ধ্যায় লোহাগড়ার দিঘলিয়া গ্রামের সাহা পাড়ায় হিন্দু বাড়িতে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও মন্দিরে হামলা হয়।

গত মাসে ফেইসবুককেন্দ্রিক আরেক পোস্টকে কেন্দ্র করে এক অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা পরানোর খবরে বেশ কিছু দিন ধরে আলোচনায় রয়েছে নড়াইল।

ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল কুমার পালিত বলেন, “রামু থেকে নাসিরনগর, এখন নড়াইল; ফেইসবুকে ফেইক আইডি আর আইডি হ্যাক করে এসব প্রতিটি ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

“যাদের নামে ফেইক আইডি বানানো হল তাদের উপর হামলা হয়। যারা এসব হামলা করল, তাদের কিছু হল না আজ পর্যন্ত। আর কোনো নিরীহ মানুষের উপর যেন হামলা না হয়।

“আর মাত্র এক বছর আছে, নির্বাচনের বাকি। আমরা যারা একাত্তরে সব হারিয়েছি, তারপরও সর্বস্ব নিয়ে স্বাধীনতার সপক্ষে দাঁড়িয়েছি। সরকারকে বলব, নিপীড়ন বন্ধ করুন। আইনের আওতায় আনুন হামলাকারীদের। বিচার করুন।”

সমাবেশে বন্দর নগরীর ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে জেলেদের উপর সন্ত্রাসী নির্যাতন বন্ধ, নিখোঁজ চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র দুর্জয় বড়ুয়ার সন্ধান এবং চন্দনাইশ উপজেলার খান দীঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিল্টন কুমার বিশ্বাসের ওপর হয়রানি বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান রানা দাশগুপ্ত।

পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে চেরাগী পাহাড় মোড় থেকে আন্দরকিল্লা মোড় হয়ে লালদীঘির পাড়ে যান নেতাকর্মীরা। এ সময় চেরাগী পাহাড় থেকে আন্দরকিল্লা পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এএইচএম জিয়া উদ্দিন, আইনজীবী রুবেল পাল, অধ্যাপক জিন বোধি ভিক্ষু সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

 

রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ